প্যানক্রিয়াটাইটিস হল প্যানক্রিয়াসের প্রদাহ যা তীব্র এককালীন বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
৮০% ক্ষেত্রে অ্যালকোহল (মদ) এবং পিত্তথলিতে পাথর এর কারণে এটি ঘটে থাকে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলির মধ্যে রয়েছে ওষুধের প্রতিক্রিয়া (উচ্চ রক্তচাপের), রক্তে ক্যালসিয়াম এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের উচ্চ মাত্রা, ইনফেকশন, বংশগত কারণ, অটোইমিউন রোগ এবং প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার।
প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগীদের অবশ্যই খাবারের বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে বিশেষ করে এটি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়। একজন রোগীর প্রধান লক্ষ্য হবে
অপুষ্টি এবং পুষ্টির ঘাটতি প্রতিরোধ করা,
রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখা (হাইপোগ্লাইসেমিয়া এবং হাইপারগ্লাইসেমিয়া উভয়ই এড়াতে হবে)
ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিয়াটাইটিসের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য যে সমস্যা গুলো আছে সেগুলো প্রতিরোধ করা।
প্যানক্রিয়াটাইটিসের তীব্র প্রদাহ গুলো যেন ঘনঘন না ঘটে সেব্যাপারে সচেতন থাকা।
আর এই লক্ষ্যগুলি অর্জনের জন্য, প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগীদের উচ্চ প্রোটিন, পুষ্টিকর খাবার ঘন ঘন খাওয়া প্রয়োজন। যার মধ্যে রয়েছে ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, দুগ্ধজাত খাবার এবং অন্যান্য চর্বিহীন প্রোটিন উৎস।
ব্যথা প্রতিরোধে অ্যালকোহল (মদ) এবং চর্বিযুক্ত বা ভাজা খাবার থেকে বিরত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিটি রোগীই ভিন্ন বলে খাবারের ধরণ এবং তালিকা ভিন্ন ভিন্ন হয়।
ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পুষ্টি উপাদান গুলো ঠিকমত হজম হয়না বিধায় অপুষ্টির উচ্চ ঝুঁকি থাকে। এখান থেকে আরো অনেক রোগের সূত্রপাত হয়।
সেকারণে, দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিয়াটাইটিসে আক্রান্ত রোগীদের পুষ্টির ঘাটতি আছে কিনা তা নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
রক্ত পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করে মাল্টিভিটামিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফোলেট, ভিটামিন ই, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি১২ গ্রহণ করা যেতে পারে।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিয়াটাইটিসের কারণে অগ্ন্যাশয় ধীরে ধীরে কাজ করার ক্ষমতা হারাতে থাকে এবং এন্ডোক্রাইন ফাংশন এক পর্যাযে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে, রোগী টাইপ 1 ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে পড়ে। তাই রোগীদের পরিশোধিত (আটা, ময়দা এর তৈরী কেনা বা ঘরে বানানো খাবার) এবং সরল কার্বোহাইড্রেট (গুড়, চিনি, গ্লুকোজ) এড়িয়ে চলা উচিত।
এনজাইম সাপ্লিমেন্টেশন
যদি ডাক্তার এনজাইম দিয়ে থাকেন তবে তা নিয়মিত গ্রহণ করা জরুরী। অন্যথায় ব্যাথার উদ্রেক হতে পারে।
আমাদের খাবার যখন ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছায় তখন সুস্থ অগ্ন্যাশয় কিছু বিশেষ এনজাইম নিঃসরণ করতে উদ্দীপিত হয়। এই এনজাইমগুলি পিত্তরসের সাথে মিলিত হয় এবং ক্ষুদ্রান্ত্রে খাদ্য ভেঙে ফেলা শুরু করে।
যেহেতু প্যানক্রিয়াটাইটিস রোগীর অগ্ন্যাশয় ঠিকভাবে কাজ করছে না, তাই তার খাবার সঠিকভাবে হজম করার জন্য প্রয়োজনীয় অগ্ন্যাশয় এনজাইমগুলি নাও পেতে পারে।
এনজাইম গ্রহণ করলে তা খাবার হজম করতে সাহায্য করতে পারে। ফলে স্টিটোরিয়ার (মলে অতিরিক্ত চর্বি) লক্ষণ দূর হয় এবং অপুষ্টির ঝুঁকি কমে।
অ্যালকোহল (মদ)
যদি অ্যালকোহল গ্রহণের কারণে প্যানক্রিয়াটাইটিস হয়ে থাকে, তাহলে আপনাকে অবশ্যই অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকতে হবে।
যদি অন্য কোন কারণে হয়ে থাকে এবং তার সমাধান করা হয় অর্থাৎ অগ্ন্যাশয় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তারপর ও আপনি অ্যালকোহল গ্রহণ করতে পারবেন না।
দীর্ঘস্থায়ী প্যানক্রিয়াটাইটিসে, ক্রমাগত প্রদাহ এবং বদ হজম হয়ে থাকে – রোগীরা ধীরে ধীরে হজমের কার্যকারিতা হারায় এবং অবশেষে ইনসুলিনের কার্যকারিতা হারায় – তাই নিয়মিত অ্যালকোহল ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
ধূমপান
প্যানক্রিয়াটাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ধূমপান এড়ানো উচিত, কারণ এটি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।